
প্রাণিজগতের অনেক প্রাণীই চঞ্চল, দ্রুতগামী কিংবা আক্রমণাত্মক স্বভাবের। তবে এমন কিছু প্রাণী আছে যারা স্বভাবগতভাবে শান্ত, ধীরস্থির এবং সহনশীল। আজকের এই ব্লগে আমরা জানব বিশ্বের সবচেয়ে শান্ত ১০ প্রাণী সম্পর্কে বিস্তারিত।
খরগোশ পৃথিবীর অন্যতম শান্ত ও কোমল স্বভাবের প্রাণী। বৈজ্ঞানিকভাবে এরা Leporidae পরিবারভুক্ত। খরগোশ সাধারণত নরম, ভীরু এবং নিরীহ প্রকৃতির হয়। পোষা খরগোশ খুব সহজে মানুষের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে এবং আদর পেতে ভালোবাসে।
তারা সাধারণত শব্দ পছন্দ করে না এবং নিরিবিলি পরিবেশে থাকতে ভালোবাসে। খরগোশের হৃদস্পন্দন দ্রুত হলেও তাদের আচরণ শান্ত। তারা তাজা ঘাস, সবজি ও ফল খেতে পছন্দ করে।
তবে মনে রাখতে হবে—অতিরিক্ত ভয় বা হুমকির মুখে পড়লে খরগোশও আত্মরক্ষার জন্য আক্রমণাত্মক হতে পারে। কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় তারা অত্যন্ত শান্ত, স্নিগ্ধ এবং নিরীহ স্বভাবের প্রাণী।

বিড়াল পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় পোষা প্রাণীগুলোর একটি। বৈজ্ঞানিক নাম Felis catus। বিড়াল স্বভাবতই স্বাধীনচেতা, কিন্তু তারা শান্ত পরিবেশে থাকতে ভালোবাসে।
অনেক সময় বিড়াল চঞ্চল হলেও অধিকাংশ সময় তারা ঘুমাতে বা চুপচাপ বসে থাকতে পছন্দ করে। আদর করলে বিড়াল গরগর শব্দ করে, যা মানুষের মনে প্রশান্তি আনে।
বিশেষ করে কিছু প্রজাতি যেমন Egyptian Mau অত্যন্ত কোমল ও সংবেদনশীল। তারা মালিকের পাশে বসে শান্ত সময় কাটাতে ভালোবাসে। সঠিক যত্ন পেলে বিড়াল খুব শান্ত ও স্নেহপরায়ণ সঙ্গী হয়ে ওঠে।


ডেগু হলো চিলির একটি ছোট সামাজিক প্রাণী। এরা অত্যন্ত মিশুক এবং দলবদ্ধভাবে থাকতে পছন্দ করে। ডেগু সাধারণত দিনের বেলায় সক্রিয় থাকে, যা অনেক ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর থেকে ভিন্ন।
ডেগুর স্বভাব শান্ত ও বন্ধুত্বপূর্ণ। নিয়মিত যত্ন ও সঠিক পরিবেশে তারা খুব কোমল আচরণ করে। তাদের নরম লোম ও কৌতূহলী চোখ অনেকের মন জয় করে নেয়।
যদিও অনেকেই ডেগুর নাম শোনেননি, পোষা প্রাণী হিসেবে তারা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তাদের আচরণ স্থির ও পর্যবেক্ষণপ্রিয়।

গিনিপিগ অত্যন্ত শান্ত ও সামাজিক প্রাণী। এরা মানুষের সংস্পর্শে থাকতে ভালোবাসে এবং সহজেই মালিকের সঙ্গে বন্ধন তৈরি করে।
গিনিপিগ সাধারণত চেঁচামেচি করে না, বরং হালকা শব্দ করে যোগাযোগ করে। তাদের নরম শরীর ও ভদ্র স্বভাব তাদের আদর্শ পোষা প্রাণী করে তুলেছে।
তারা সবজি ও ফল খেতে পছন্দ করে এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকতে ভালোবাসে। শিশুদের জন্যও গিনিপিগ একটি নিরাপদ পোষা প্রাণী হিসেবে বিবেচিত।

ময়ূর তার রঙিন পেখমের জন্য বিখ্যাত। যদিও তারা কখনও কখনও পেখম মেলে প্রদর্শনী করে, তবুও সাধারণ অবস্থায় তারা শান্ত ও ধীরচল।
ময়ূর সাধারণত খোলা প্রান্তরে হাঁটে এবং নিরিবিলি পরিবেশে থাকতে পছন্দ করে। তারা অকারণে আক্রমণাত্মক হয় না।
তাদের রাজকীয় ভঙ্গি ও স্থির আচরণ তাদেরকে শান্ত প্রাণীর তালিকায় স্থান দিয়েছে।

কচ্ছপ ধীরগতি ও স্থিরতার প্রতীক। এরা খুব ধীরে চলে এবং দীর্ঘ সময় নিরিবিলি কাটায়।
কচ্ছপের খোলস তাদের নিরাপত্তা দেয়, ফলে তারা সহজে ভয় পায় না। তারা সাধারণত শান্ত এবং মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়।
অনেকেই কচ্ছপকে দীর্ঘায়ুর প্রতীক হিসেবে দেখে। তাদের ধীর ও স্থির জীবনযাপন সত্যিই প্রশান্তিদায়ক।

গিরগিটি তার রঙ পরিবর্তনের ক্ষমতার জন্য বিখ্যাত। তারা সাধারণত এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকে।
গিরগিটি খুব শান্তভাবে শিকার ধরে এবং অযথা চলাফেরা করে না। তাদের চলাফেরা ধীর ও মন্থর।
তাদের রহস্যময় উপস্থিতি ও স্থির দৃষ্টি তাদেরকে এক ধরনের শান্ত আভা প্রদান করে।

হামস্টার ছোট কিন্তু শান্ত স্বভাবের প্রাণী। তারা সাধারণত রাতে সক্রিয় থাকে এবং দিনে বিশ্রাম নেয়।
সঠিক যত্নে হামস্টার খুব কোমল ও আদুরে হয়। তারা খাবার গালে জমা রাখে, যা দেখতে মজার।
শিশুদের কাছে হামস্টার খুব প্রিয় একটি পোষা প্রাণী।

ডলফিন অত্যন্ত বুদ্ধিমান সামুদ্রিক প্রাণী। তারা সামাজিক ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করে।
যদিও তারা শক্তিশালী, তবুও মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করে। অনেক সময় ডলফিনকে সমুদ্রের হাসিখুশি প্রাণী বলা হয়।
তাদের শান্ত সাঁতার ও দলবদ্ধ জীবনযাপন এক ধরনের ভারসাম্য ও সৌন্দর্যের প্রতীক।
সাপ সাধারণত অযথা আক্রমণ করে না। তারা নিজের কাজে থাকে এবং বিরক্ত না করলে শান্ত থাকে।
বেশিরভাগ সাপ মানুষের থেকে দূরে থাকতে চায়। আত্মরক্ষার প্রয়োজনে তারা আক্রমণ করে।
তাদের নিঃশব্দ চলাফেরা ও স্থিরতা তাদেরকে শান্ত প্রাণীর তালিকায় স্থান দিয়েছে।
প্রকৃতির মাঝে শান্ত প্রাণীরা আমাদের ধৈর্য, স্থিরতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়। প্রতিটি প্রাণীর নিজস্ব স্বভাব আছে, তবে সঠিক পরিবেশ ও যত্নে তারা হয়ে ওঠে কোমল ও শান্ত সঙ্গী।