রমাদানে গুনাহ মাফের জন্য সেরা ১০ দোয়া

top-10-ramdan-doa
Category : 

(পূর্ণ আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ)

রমাদান মাস মুসলমানদের জন্য এক বিশেষ নিয়ামত। এই মাসকে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস বলা হয়। পবিত্র এই মাসে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়া ও করুণা বর্ষণ করেন। রোজা, তারাবিহ, কুরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা এবং নফল ইবাদতের মাধ্যমে একজন মুমিন তার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার সুযোগ পায়। কিন্তু ইবাদতের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর একটি হলো দোয়া—কারণ দোয়ার মাধ্যমেই বান্দা সরাসরি তার রবের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, রমাদানে এমন একটি সময় রয়েছে যখন বান্দার দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। বিশেষ করে ইফতারের সময়, তাহাজ্জুদের সময় এবং লাইলাতুল কদরে করা দোয়া আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে কবুল করেন। তাই রমাদান হলো তওবা ও গুনাহ মাফের সুবর্ণ সুযোগ।

অনেকেই জানতে চান—কোন দোয়াগুলো পড়লে গুনাহ মাফের আশা করা যায়? নিচে কুরআন ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত ১০ গুরুত্বপূর্ণ দোয়া দেওয়া হলো, যা রমাদানে বেশি বেশি পড়া উচিত।


১. লাইলাতুল কদরের দোয়া

আরবি:
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা'ফু আন্নি।

অর্থ:
হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন—আমাকে ক্ষমা করে দিন।


২. সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার (পূর্ণ দোয়া)

আরবি:
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা আন্তা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু, আউযু বিকা মিন শাররি মা সানাতু, আবুউ লাকা বিনি'মাতিকা আলাইয়া, ওয়া আবুউ বিজানবি, ফাগফিরলি, ফা ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয জুনুবা ইল্লা আন্তা।

অর্থ:
হে আল্লাহ! আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই… (সংক্ষেপে) আমাকে ক্ষমা করুন, কারণ আপনি ছাড়া কেউ গুনাহ মাফ করতে পারে না।


৩. সাধারণ ইস্তিগফার

আরবি:
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الْعَظِيمَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

উচ্চারণ:
আস্তাগফিরুল্লাহাল আযীমাল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।

অর্থ:
আমি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক—এবং আমি তাঁর কাছে তওবা করি।


৪. সূরা আল-ইমরান (৩:৮)

আরবি:
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ

উচ্চারণ:
রাব্বানা লা তুযিগ কুলুবানা বা'দা ইয হাদাইতানা ওয়া হাবলানা মিল্লাদুংকা রহমাহ, ইন্নাকা আন্তাল ওাহহাব।

অর্থ:
হে আমাদের রব! হেদায়েত দেওয়ার পর আমাদের অন্তর বক্র করবেন না…


৫. সূরা আল-বাকারাহ (২:২৮৬) এর দোয়া

আরবি:
رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا...

উচ্চারণ (আংশিক):
রাব্বানা লা তুআখিজনা ইন নাসিনা আও আখতা'না…

অর্থ:
হে আমাদের রব! আমরা ভুলে গেলে বা ভুল করলে আমাদের পাকড়াও করবেন না…


৬. জান্নাত প্রার্থনার দোয়া

আরবি:
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ:
রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া ক্বিনা আযাবান্নার।

অর্থ:
হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন, আখিরাতে কল্যাণ দিন এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।


৭. পিতা-মাতার জন্য দোয়া

আরবি:
رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا

উচ্চারণ:
রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা।

অর্থ:
হে আমার রব! তাদের প্রতি দয়া করুন, যেমন তারা আমাকে ছোটবেলায় লালন-পালন করেছেন।


৮. তওবার দোয়া

আরবি:
رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ

উচ্চারণ:
রাব্বিগফিরলি ওয়া তুব আলাইয়া, ইন্নাকা আন্তাত তাওয়াবুর রহিম।

অর্থ:
হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তওবা কবুল করুন।


৯. কষ্ট ও দুশ্চিন্তা দূরের দোয়া

আরবি:
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

উচ্চারণ:
লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায জালিমিন।

অর্থ:
আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আপনি পবিত্র; নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।


১০. সকল মুমিনের জন্য দোয়া

আরবি:
رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ

উচ্চারণ:
রাব্বানাগফিরলি ওয়া লিওয়ালিদাইয়া ওয়া লিলমুমিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।

অর্থ:
হে আমাদের রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সকল মুমিনকে ক্ষমা করুন, যেদিন হিসাব কায়েম হবে।


রমাদান হলো আত্মশুদ্ধির মাস। শুধু দোয়া মুখস্থ পড়লেই হবে না—আন্তরিকতা, অনুশোচনা এবং গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার দৃঢ় সংকল্প থাকতে হবে। আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত দয়ালু ও ক্ষমাশীল। এই দোয়াগুলো নিয়মিত পড়লে, বিশেষ করে ইফতারের আগে ও তাহাজ্জুদের সময়, গুনাহ মাফের বড় সুযোগ পাওয়া যায়—ইনশাআল্লাহ।

crossmenu