
WWE-এর রিং মানেই শুধু বিনোদন নয়, এটি শক্তি, সহনশীলতা এবং ব্যক্তিত্বের এক অনন্য মঞ্চ। এখানে একজন রেসলারের শক্তি কেবল তার পেশীর আকারে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তার ক্যারিশমা, উপস্থিতি, এবং দর্শকদের মুগ্ধ করার ক্ষমতাই তাকে সত্যিকারের পাওয়ারহাউস বানায়। আমরা বহুবার দেখেছি—কেউ ৫০০ পাউন্ড ওজনের প্রতিপক্ষকে কাঁধে তুলে নিয়েছেন, কেউ আবার স্টিলের খাঁচা ভেঙে দিয়েছেন খালি হাতে। এগুলো সিনেমার দৃশ্য নয়, বরং WWE ইতিহাসের বাস্তব মুহূর্ত।
সময়ের সাথে সাথে WWE আমাদের উপহার দিয়েছে অসংখ্য শক্তিধর রেসলার। কারও শক্তি এসেছে পেশাদার পাওয়ারলিফটিং ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে, কারও আবার এসেছে প্রাকৃতিক দৈহিক গঠন থেকে। কেউ ছিলেন দৈত্যাকার শরীরের অধিকারী, কেউ আবার বিস্ময়কর গতির সাথে মিলিয়েছেন অমানুষিক শক্তি। World Wrestling Entertainment–এর রিংয়ে এই সব তারকারা শুধু ম্যাচ জেতেননি, তৈরি করেছেন কিংবদন্তি।
এই তালিকায় আমরা তুলে ধরছি সেই দশজন রেসলারকে, যাদের শক্তির প্রদর্শন আজও ভক্তদের মনে বিস্ময় জাগায়। জন সিনা থেকে আন্দ্রে দ্য জায়ান্ট—প্রত্যেকেই নিজ নিজ সময়ে ছিলেন শক্তির প্রতীক। চলুন, বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক সর্বকালের সেরা ১০ শক্তিশালী WWE রেসলারের কথা।

জন সিনা শুধু জনপ্রিয়তায় নয়, শক্তিতেও ছিলেন অনন্য। ১৯৯৯ সালে ক্যারিয়ার শুরু করে তিনি দ্রুতই WWE–এর মুখ হয়ে ওঠেন। তার বিখ্যাত মুভ ‘Attitude Adjustment’ দিয়ে তিনি একাধিক ভারী প্রতিপক্ষকে কাঁধে তুলে আছাড় মেরেছেন। বিশেষ করে WrestleMania-তে এজ ও বিগ শোকে একসাথে তুলে নেওয়ার দৃশ্যটি আজও ভক্তদের বিস্মিত করে।
সিনার শক্তির আরেক প্রমাণ—মার্ক হেনরির সঙ্গে আর্ম রেসলিংয়ে জয়। যাকে “World’s Strongest Man” বলা হয়, তাকেই হারিয়ে সিনা দেখিয়েছিলেন তার প্রকৃত ক্ষমতা। তিনি খুব কমই ট্যাপ আউট করেছেন, যা তার শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তার প্রতীক। কেইন, রোমান রেইন্স, র্যান্ডি অর্টনের মতো তারকাদের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয় তাকে শক্তির পাশাপাশি দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিরও প্রতীক করেছে।
জন সিনা প্রমাণ করেছেন—শক্তি মানে শুধু ওজন তোলা নয়; বরং কঠিন মুহূর্তে দাঁড়িয়ে থাকা, “Never Give Up” মনোভাব ধরে রাখা।

ব্রক লেসনারকে বলা হয় এক কথায় “মেশিন”। তিনি WWE–এর ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ চ্যাম্পিয়নদের একজন এবং একই সাথে সাবেক UFC হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন। তার শারীরিক শক্তি ও বিস্ফোরক গতি তাকে আলাদা করে তোলে। ১০০০ পাউন্ড স্কোয়াট করার ক্ষমতা এবং অবিশ্বাস্য Suplex City পারফরম্যান্স তার শক্তির বড় উদাহরণ।
লেসনারের বৈশিষ্ট্য হলো—তার শক্তি ও অ্যাথলেটিসিজমের সমন্বয়। তার মতো বিশালদেহী রেসলারও ‘Shooting Star Press’ করতে পারেন, যা সত্যিই বিরল। যদিও গোল্ডবার্গের কাছে তিনি কিছু স্মরণীয় পরাজয় বরণ করেছেন, তবুও তার আধিপত্য দীর্ঘস্থায়ী ছিল।
Stone Cold Steve Austin ও The Rock-এর মতো কিংবদন্তিরাও তার শক্তিকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। লেসনার প্রমাণ করেছেন, আধুনিক যুগেও খাঁটি শক্তির দাপট কীভাবে বজায় রাখা যায়।

গোল্ডবার্গের ১৭৩-০ জয়ের ধারাবাহিকতা তাকে কিংবদন্তি বানিয়েছে। তার Spear ও Jackhammer ছিল বিধ্বংসী। তিনি একাধিকবার ব্রক লেসনারকে পরাস্ত করেছেন এবং WrestleMania-তে তাকে মিলিটারি প্রেসে তুলে ধরেছিলেন—যা শক্তির এক অসাধারণ উদাহরণ।
WCW-তে তার অপরাজিত স্ট্রিক ভাঙার ঘটনাও বিতর্কিত। অনেকেই মনে করেন, সেটি ন্যায্যভাবে ভাঙেনি। গোল্ডবার্গের শারীরিক শক্তি ও আগ্রাসন তাকে এক অনন্য শক্তিধর রেসলার বানায়।
তার উপস্থিতি মানেই ছিল ভয় ও উত্তেজনা। তিনি প্রমাণ করেছেন, বিস্ফোরক শক্তি এবং স্বল্প সময়ের ম্যাচ দিয়েও কিংবদন্তি হওয়া যায়।

মার্ক হেনরি সত্যিকার অর্থেই “World’s Strongest Man” উপাধির যোগ্য। তিনি একজন অলিম্পিক ও পাওয়ারলিফটার ছিলেন। ৭০০ পাউন্ডের বেশি বেঞ্চ প্রেস এবং ৪৫১ পাউন্ড ক্লিন অ্যান্ড প্রেস তার শক্তির প্রমাণ।
Big Show–এর মতো ৪৮৫ পাউন্ড ওজনের রেসলারকে তুলে ‘World’s Strongest Slam’ দেওয়া ছিল ঐতিহাসিক মুহূর্ত। হেনরির শক্তি ছিল বাস্তব প্রতিযোগিতায় প্রমাণিত, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।
তার ক্যারিয়ার জুড়ে তিনি প্রমাণ করেছেন—প্রকৃত শক্তি শুধু প্রদর্শনের জন্য নয়, বরং দক্ষতার সাথে নিয়ন্ত্রণেরও বিষয়।

৭ ফুটের কাছাকাছি উচ্চতা ও বিশাল ওজনের অধিকারী বিগ শো ছিলেন এক চলন্ত দৈত্য। তার KO Punch ও চোকস্ল্যাম ছিল ধ্বংসাত্মক। অনেকেই মনে করেন, তার প্রাইম সময়ে তিনি আন্দ্রে দ্য জায়ান্টের সমতুল্য শক্তিধর ছিলেন।
তার বিশাল শরীর সত্ত্বেও তিনি অবিশ্বাস্যভাবে দ্রুত নড়াচড়া করতে পারতেন। তার উপস্থিতিই প্রতিপক্ষকে ভয় পাইয়ে দিত।
বিগ শো প্রমাণ করেছেন—দৈহিক বিশালতা ও প্রকৃত শক্তি একসাথে হলে কীভাবে রিং কাঁপিয়ে দেওয়া যায়।

দ্য আন্ডারটেকার ছিলেন শক্তি ও সহনশীলতার প্রতীক। ৪৫০ পাউন্ডের ভেডারকে Tombstone দেওয়া কিংবা ৬০০+ পাউন্ড ইয়োকোজুনাকে চোকস্ল্যাম করা ছিল অবিশ্বাস্য।
বয়স বাড়ার পরও তিনি গ্রেট খালিকে তুলেছিলেন চোকস্ল্যামে। তার ‘Last Ride’ ছিল শক্তির নিখুঁত উদাহরণ।
আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায়ও ম্যাচ শেষ করা তার মানসিক শক্তির প্রমাণ। তিনি দেখিয়েছেন, প্রকৃত শক্তি আসে দৃঢ় মনোবল থেকেও।

কেইন ছিলেন ভয়ঙ্কর শক্তির অধিকারী। ১৯৯৭ সালে অভিষেকের পর থেকেই তিনি রিংয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালান। তার চোকস্ল্যাম ছিল বিধ্বংসী।
অনেক সময় স্ক্রিপ্টের কারণে পরাজিত হলেও তার শক্তি নিয়ে কখনও প্রশ্ন ওঠেনি। দীর্ঘ সময় কোম্পানির সাথে থেকে তিনি ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়েছেন।
তার বিশাল শরীর, আগুনের এন্ট্রান্স এবং নির্মম শক্তি তাকে স্মরণীয় করে রেখেছে।

৭ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার খালি ছিলেন প্রাকৃতিক দৈত্য। তার বিশাল হাত ও শক্তিশালী গ্রিপ প্রতিপক্ষকে সহজেই কাবু করত।
যদিও তার চলাফেরা কিছুটা ধীর ছিল, তবুও তার শক্তি ছিল ভয়ংকর। তিনি ইতিহাসের প্রথম ভারতীয় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।
তার প্রাকৃতিক শক্তি ও আকার তাকে এই তালিকায় বিশেষ স্থান দিয়েছে।

দ্য রক শুধু ক্যারিশমাতেই নয়, শক্তিতেও ছিলেন এগিয়ে। জন সিনাকে হারানো তার অন্যতম বড় সাফল্য।
তার ‘Rock Bottom’ ছিল শক্তিশালী ও প্রভাবশালী মুভ। ৮ বারের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তিনি শক্তি ও ব্যক্তিত্বের মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন।
তিনি প্রমাণ করেছেন—শক্তি ও জনপ্রিয়তা একসাথে মিললে কিংবদন্তি তৈরি হয়।

আন্দ্রে দ্য জায়ান্ট ছিলেন “The Eighth Wonder of the World”। তার বিশাল দৈহিক গঠন ও অমানুষিক শক্তি তাকে কিংবদন্তি করেছে।
তার সময়ে তাকে কেউ সহজে চ্যালেঞ্জ করতে সাহস পেত না। তার শক্তি এতটাই ভয়ঙ্কর ছিল যে প্রতিপক্ষরা আগে থেকেই আতঙ্কিত থাকত।
আন্দ্রে প্রমাণ করেছেন—শারীরিক বিশালতা ও স্বাভাবিক শক্তি মিললে একজন রেসলার হয়ে ওঠেন ইতিহাসের অংশ।
এই দশজন রেসলার তাদের সময়ে শক্তির একেকটি প্রতীক ছিলেন। কারও শক্তি ছিল বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণের ফল, কারও ছিল প্রাকৃতিক দৈহিক গঠন। তবে প্রত্যেকেই WWE–এর ইতিহাসে নিজেদের শক্তির স্বাক্ষর অম্লান করে রেখেছেন।