হার্ট ফেইলিউর কেন হয়? ১০টি প্রধান কারণ

top 10 reasons for heart attack

হার্ট ফেইলিউর শব্দটি শুনলেই অনেকের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকেই মনে করেন এর অর্থ হলো হৃদ্‌যন্ত্র সম্পূর্ণভাবে কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। হার্ট ফেইলিউর বলতে বোঝায় হৃদ্‌যন্ত্র ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে পারছে না। ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছাতে সমস্যা হয়।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন। তবে আশার বিষয় হলো—সঠিক চিকিৎসা, নিয়মিত ওষুধ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করলে হার্ট ফেইলিউর থাকা সত্ত্বেও অনেক মানুষ দীর্ঘদিন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

হার্টের প্রধান কাজ হলো শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু যখন হৃদ্‌যন্ত্র দুর্বল হয়ে যায় বা শক্ত হয়ে যায়, তখন সেটি আগের মতো কার্যকরভাবে রক্ত পাম্প করতে পারে না। তখন শরীরে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়—যেমন শ্বাসকষ্ট, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া, পা বা গোড়ালি ফুলে যাওয়া, ওজন হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি।

হার্ট ফেইলিউরের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। কিছু কারণ জন্মগত বা জটিল রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত, আবার কিছু কারণ সম্পূর্ণই জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িত। তাই এই কারণগুলো সম্পর্কে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে হার্ট ফেইলিউরের ১০টি প্রধান কারণ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।


১. দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure)

Image

দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ থাকা হার্ট ফেইলিউরের অন্যতম প্রধান কারণ। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে হৃদ্‌যন্ত্রকে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি শক্তি ব্যবহার করে রক্ত পাম্প করতে হয়।

ধরা যাক, একটি পানির পাম্প দিয়ে যদি সরু পাইপের মাধ্যমে পানি তুলতে হয়, তাহলে পাম্পকে বেশি চাপ দিতে হয়। ঠিক একইভাবে রক্তনালীগুলো সংকুচিত বা শক্ত হয়ে গেলে হৃদ্‌যন্ত্রকে বেশি জোরে কাজ করতে হয়।

এই অতিরিক্ত চাপ দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে হৃদ্‌পেশী ধীরে ধীরে মোটা ও শক্ত হয়ে যায়। প্রথমদিকে এটি শরীরকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করলেও পরবর্তীতে এই পেশী দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা কমে যায়।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব রোগ হিসেবে পরিচিত, কারণ অনেক সময় কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে মানুষ দীর্ঘদিন বুঝতেই পারে না যে তার রক্তচাপ বেশি।

যদি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, তাহলে এটি ধীরে ধীরে হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা, লবণ কম খাওয়া, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


২. করোনারি আর্টারি ডিজিজ (Coronary Artery Disease)

Image

করোনারি আর্টারি ডিজিজ বা হৃদ্‌যন্ত্রের রক্তনালীর রোগ হার্ট ফেইলিউরের আরেকটি বড় কারণ। আমাদের হৃদ্‌যন্ত্র নিজেও রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন পায়, যা আসে করোনারি আর্টারি নামের বিশেষ রক্তনালীর মাধ্যমে।

যখন এই রক্তনালীর ভেতরে ধীরে ধীরে চর্বি, কোলেস্টেরল ও অন্যান্য পদার্থ জমতে থাকে, তখন নালী সংকুচিত হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় এথেরোস্ক্লেরোসিস

ফলে হৃদ্‌যন্ত্রের পেশী পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। এতে বুক ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চলতে থাকলে হৃদ্‌পেশী দুর্বল হয়ে যায়।

সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি হয় যখন এই জমে থাকা প্লাক হঠাৎ ফেটে যায় এবং রক্তনালী পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তখন ঘটে হার্ট অ্যাটাক। হার্ট অ্যাটাকের ফলে হৃদ্‌পেশীর একটি অংশ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

যখন হৃদ্‌যন্ত্রের পেশীর একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন সেটি আর আগের মতো শক্তিশালীভাবে রক্ত পাম্প করতে পারে না। এভাবেই ধীরে ধীরে হার্ট ফেইলিউর তৈরি হয়।

ধূমপান, উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।


৩. হার্ট অ্যাটাকের ইতিহাস

Image

হার্ট অ্যাটাক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন হার্ট ফেইলিউরের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। হার্ট অ্যাটাক তখন ঘটে যখন হৃদ্‌যন্ত্রের কোনো একটি রক্তনালী হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় এবং সেই অংশে রক্ত পৌঁছানো বন্ধ হয়ে যায়।

রক্ত না পৌঁছালে হৃদ্‌পেশীর কোষগুলো অক্সিজেনের অভাবে মারা যেতে শুরু করে। এতে হৃদ্‌যন্ত্রের একটি অংশ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়।

হার্ট অ্যাটাক থেকে বেঁচে যাওয়া অনেক মানুষ পরবর্তীতে হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকিতে থাকেন। কারণ হৃদ্‌পেশীর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আর আগের মতো সংকুচিত হতে পারে না।

ফলে পুরো হৃদ্‌যন্ত্রের পাম্প করার ক্ষমতা কমে যায়। কখনো কখনো হার্ট অ্যাটাকের পর ধীরে ধীরে হৃদ্‌যন্ত্র বড় হয়ে যায় এবং দুর্বল হয়ে পড়ে।

যদি সময়মতো চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এই ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। তাই হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

বুকের মাঝখানে তীব্র চাপ, হাত বা চোয়ালে ব্যথা, ঠান্ডা ঘাম, শ্বাসকষ্ট—এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা নিতে হবে।


৪. হার্ট ভালভের সমস্যা

Image

হৃদ্‌যন্ত্রের ভেতরে চারটি ভালভ রয়েছে, যেগুলো রক্তকে সঠিক দিকে প্রবাহিত হতে সাহায্য করে। কিন্তু যদি এই ভালভগুলোর কোনোটি ঠিকমতো কাজ না করে, তাহলে রক্ত প্রবাহে সমস্যা সৃষ্টি হয়।

কখনো ভালভ সংকুচিত হয়ে যায় (স্টেনোসিস), আবার কখনো ঠিকমতো বন্ধ হয় না (রিগারজিটেশন)। এই দুই অবস্থাতেই হৃদ্‌যন্ত্রকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়।

ধরা যাক, একটি দরজা ঠিকমতো বন্ধ না হলে বাতাস বারবার ভেতরে ঢুকে পড়ে। ঠিক তেমনি ভালভ ঠিকভাবে বন্ধ না হলে রক্ত আবার আগের দিকে ফিরে যায়।

এর ফলে হৃদ্‌যন্ত্রকে একই রক্ত বারবার পাম্প করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই অতিরিক্ত কাজ করতে করতে হৃদ্‌পেশী দুর্বল হয়ে পড়ে।

রিউম্যাটিক জ্বর, জন্মগত ত্রুটি বা বয়সজনিত পরিবর্তনের কারণে ভালভের সমস্যা হতে পারে।

যদি সময়মতো চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এই সমস্যা ধীরে ধীরে হার্ট ফেইলিউরের দিকে নিয়ে যেতে পারে।


৫. অস্বাভাবিক হার্টবিট (Arrhythmia)

Image

হার্টের স্বাভাবিক কাজের জন্য একটি নির্দিষ্ট ছন্দে ধুকপুক করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কখনো কখনো এই ছন্দে সমস্যা দেখা দেয়, যাকে বলা হয় অ্যারিথমিয়া

অ্যারিথমিয়া হলে হৃদ্‌যন্ত্র খুব দ্রুত, খুব ধীরে অথবা অনিয়মিতভাবে স্পন্দিত হতে পারে। এতে রক্ত পাম্প করার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

যদি হৃদ্‌যন্ত্র খুব দ্রুত স্পন্দিত হয়, তাহলে প্রতিটি স্পন্দনের সময় পর্যাপ্ত রক্ত পাম্প করার সুযোগ পায় না। আবার যদি খুব ধীরে স্পন্দিত হয়, তাহলে শরীরের চাহিদা অনুযায়ী রক্ত সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা থাকলে হৃদ্‌পেশী দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং ধীরে ধীরে হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি বাড়ে।

অ্যারিথমিয়ার অনেক ধরন রয়েছে, যেমন এট্রিয়াল ফিব্রিলেশন, ভেন্ট্রিকুলার ট্যাকিকার্ডিয়া ইত্যাদি।

এই সমস্যার চিকিৎসার মধ্যে ওষুধ, পেসমেকার বা বিশেষ ধরনের সার্জারি থাকতে পারে।


৬. ডায়াবেটিস

Image

ডায়াবেটিস শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় না, এটি হৃদ্‌যন্ত্রের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করে। দীর্ঘদিন ধরে রক্তে শর্করা বেশি থাকলে রক্তনালী ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই ক্ষতি হৃদ্‌যন্ত্রের রক্তনালীতেও প্রভাব ফেলে, ফলে করোনারি আর্টারি ডিজিজের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এছাড়া ডায়াবেটিসের কারণে শরীরে প্রদাহ বৃদ্ধি পায় এবং হৃদ্‌পেশীর গঠনেও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

ফলে হৃদ্‌যন্ত্র ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা কমে যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের হার্ট ফেইলিউর হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি।

তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা—যেমন নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ—হার্টকে সুস্থ রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


৭. কিডনি রোগ

Image

কিডনি এবং হৃদ্‌যন্ত্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কিডনি শরীরের অতিরিক্ত পানি ও বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়।

কিন্তু যখন কিডনি ঠিকমতো কাজ করতে পারে না, তখন শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে থাকে। এই অতিরিক্ত তরল হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর চাপ বাড়ায়।

ফলে হৃদ্‌যন্ত্রকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি কাজ করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই চাপ থাকলে হৃদ্‌যন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

এছাড়া কিডনি রোগের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের সম্পর্কও রয়েছে, যা হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

কিডনি রোগের লক্ষণ অনেক সময় দেরিতে ধরা পড়ে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

যদি কিডনি রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তাহলে হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।


৮. ধূমপান

Image

ধূমপান হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা নিকোটিন ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ রক্তনালীর ভেতরে ক্ষতি করে।

এর ফলে রক্তনালী সংকুচিত হয়ে যায় এবং রক্ত প্রবাহ কমে যায়। একই সঙ্গে ধূমপান রক্তচাপ বাড়ায় এবং হৃদ্‌স্পন্দনের গতি বৃদ্ধি করে।

এই সব মিলিয়ে হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।

ধূমপান করোনারি আর্টারি ডিজিজ, হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকিও অনেক বাড়িয়ে দেয়।

দীর্ঘদিন ধূমপান করলে হৃদ্‌পেশী ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সুখবর হলো—ধূমপান বন্ধ করলে ধীরে ধীরে হৃদ্‌যন্ত্রের ঝুঁকি কমতে শুরু করে।


৯. স্থূলতা (Obesity)

Image

স্থূলতা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। অতিরিক্ত ওজন থাকলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যার মধ্যে হৃদ্‌যন্ত্র অন্যতম।

অতিরিক্ত শরীরের ওজন বহন করার জন্য হৃদ্‌যন্ত্রকে বেশি রক্ত পাম্প করতে হয়। ফলে হৃদ্‌যন্ত্রের কাজের চাপ বেড়ে যায়।

স্থূলতা প্রায়ই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের সঙ্গে যুক্ত থাকে—যেগুলো সবই হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি বাড়ায়।

এছাড়া শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমলে প্রদাহ বৃদ্ধি পায়, যা হৃদ্‌পেশীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা হার্টকে সুস্থ রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


১০. স্লিপ অ্যাপনিয়া (Sleep Apnea)

Image

স্লিপ অ্যাপনিয়া একটি ঘুমের সমস্যা, যেখানে ঘুমের সময় বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং আবার শুরু হয়।

এই অবস্থায় শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। ফলে হৃদ্‌যন্ত্রকে বেশি কাজ করতে হয় এবং রক্তচাপ বেড়ে যায়।

প্রতিবার শ্বাস বন্ধ হওয়ার সময় শরীর হঠাৎ জেগে ওঠে, যা ঘুমের স্বাভাবিক চক্রকে ব্যাহত করে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চলতে থাকলে হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর ক্রমাগত চাপ পড়ে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের স্লিপ অ্যাপনিয়া রয়েছে তাদের উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক এবং হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি বেশি।

স্লিপ অ্যাপনিয়ার সাধারণ লক্ষণ হলো জোরে নাক ডাকা, ঘুমের সময় শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া, সকালে মাথাব্যথা এবং দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুমভাব।

সঠিক চিকিৎসা—যেমন CPAP মেশিন ব্যবহার, ওজন কমানো এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

crossmenu