সর্বকালের সেরা ১০ গিটারিস্ট

top 10 guitarist of alltime

গিটার আধুনিক সঙ্গীতের অন্যতম শক্তিশালী এবং জনপ্রিয় বাদ্যযন্ত্র। রক, ব্লুজ, জ্যাজ, মেটাল থেকে শুরু করে পপ—প্রায় সব ধরনের সংগীতেই গিটারের উপস্থিতি অপরিহার্য। একটি মাত্র যন্ত্র দিয়ে কখনো কোমল আবেগ, কখনো তীব্র বিদ্রোহ, আবার কখনো গভীর দার্শনিক অনুভূতিও প্রকাশ করা যায়। এই কারণেই গিটার শুধু একটি যন্ত্র নয়, অনেক শিল্পীর কাছে এটি আত্মপ্রকাশের একটি ভাষা।

বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে এমন কিছু গিটারবাদক রয়েছেন যারা এই যন্ত্রটির সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। কেউ নতুন প্রযুক্তি বা বাজানোর কৌশল আবিষ্কার করেছেন, কেউবা গিটারের মাধ্যমে এমন সুর সৃষ্টি করেছেন যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে প্রভাবিত করেছে। তাদের সৃষ্ট সুর, রিফ এবং সলো আজও লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ে অনুরণিত হয়।

এই তালিকায় যেসব গিটারিস্টদের নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে তারা ভিন্ন ভিন্ন সময়, সংস্কৃতি এবং সংগীতধারার প্রতিনিধিত্ব করেন। তবু একটি বিষয়ে তারা সবাই এক—গিটারের তারে তারা এমন এক জাদু সৃষ্টি করেছেন যা সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে আছে।

চলুন, এখন আমরা দেখে নিই সর্বকালের সেরা ১০ জন গিটারিস্ট, যাদের অবদান গিটার বাজানোর ধারণাকেই বদলে দিয়েছে।


১. জিমি হেন্ডরিক্স (Jimi Hendrix)

Image

জিমি হেন্ডরিক্সকে প্রায়ই আধুনিক ইলেকট্রিক গিটারের বিপ্লবী বলা হয়। ১৯৬০–এর দশকের শেষ দিকে তিনি গিটার বাজানোর পদ্ধতিই বদলে দিয়েছিলেন। মাত্র কয়েক বছরের ক্যারিয়ার হলেও তিনি সংগীত ইতিহাসে এমন প্রভাব রেখে গেছেন যা আজও অম্লান।

হেন্ডরিক্স গিটারকে শুধু সুর তোলার যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেননি; তিনি এটিকে এক ধরনের শব্দ–পরীক্ষাগারের মতো ব্যবহার করতেন। ফিডব্যাক, ডিস্টরশন, ফাজ এবং রিভার্বের মতো ইফেক্টকে তিনি মূলধারায় নিয়ে আসেন। তার বিখ্যাত লাইভ পারফরম্যান্সে দাঁত দিয়ে গিটার বাজানো কিংবা গিটার উল্টো করে বাজানোর দৃশ্য দর্শকদের বিস্মিত করেছিল।

“The Star-Spangled Banner” কিংবা “Purple Haze” এর মতো গানগুলোতে তার গিটারের সুর যেন এক ধরনের সাইকেডেলিক অভিজ্ঞতা তৈরি করে। তিনি গিটারকে এমনভাবে ব্যবহার করতেন যেন এটি মানুষের কণ্ঠের মতো কথা বলতে পারে।

অনেক কিংবদন্তি গিটারিস্ট—যেমন এরিক ক্ল্যাপটন বা এডি ভ্যান হ্যালেন—নিজেদের অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে হেন্ডরিক্সের নাম উল্লেখ করেছেন। বলা যায়, আধুনিক রক গিটারের সলো সংস্কৃতির সূচনা তার হাত ধরেই।

মাত্র ২৭ বছর বয়সে তার মৃত্যু হলেও জিমি হেন্ডরিক্স আজও গিটার ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী শিল্পীদের একজন।


২. জিমি পেজ (Jimmy Page)

Image

জিমি পেজ মূলত কিংবদন্তি রক ব্যান্ড Led Zeppelin–এর প্রতিষ্ঠাতা গিটারিস্ট হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তার বাজানোর স্টাইল ছিল শক্তিশালী রিফ, জটিল সলো এবং সৃজনশীল প্রোডাকশনের অসাধারণ সমন্বয়।

পেজের বিশেষত্ব ছিল তার সাউন্ড তৈরি করার ক্ষমতা। তিনি স্টুডিওতে বিভিন্ন ধরনের রেকর্ডিং টেকনিক ব্যবহার করতেন যা রক সংগীতকে নতুন মাত্রা দেয়। “Stairway to Heaven”, “Whole Lotta Love” কিংবা “Kashmir” এর মতো গানগুলোর গিটার সাউন্ড আজও রক সংগীতের ক্লাসিক উদাহরণ।

তার ডাবল–নেক গিটার ব্যবহার করা লাইভ পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত বিখ্যাত। একই গানে দুটি আলাদা গিটার ট্র্যাক বাজানোর জন্য তিনি এই যন্ত্র ব্যবহার করতেন, যা সেই সময়ে অত্যন্ত অভিনব ছিল।

জিমি পেজের গিটার বাজানোর মধ্যে ব্লুজ, ফোক এবং হার্ড রকের মিশ্রণ দেখা যায়। এই বৈচিত্র্যই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। অনেক সংগীত সমালোচকের মতে, তার তৈরি রিফগুলো রক সংগীতের ইতিহাসে সবচেয়ে স্মরণীয়।

আজও বহু তরুণ গিটারবাদক তার স্টাইল অনুকরণ করার চেষ্টা করেন। সংগীত ইতিহাসে জিমি পেজ শুধু একজন গিটারিস্ট নন, তিনি রক সংগীতের এক অনন্য স্থপতি।


৩. এডি ভ্যান হ্যালেন (Eddie Van Halen)

Image

এডি ভ্যান হ্যালেন গিটার বাজানোর কৌশলে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিলেন। বিশেষ করে তার “tapping” টেকনিক গিটার বাজানোর জগতে বিপ্লব সৃষ্টি করে। এই কৌশলে তিনি গিটারের ফ্রেটবোর্ডে দুই হাত ব্যবহার করে দ্রুত ও জটিল সুর তৈরি করতেন।

১৯৭৮ সালে প্রকাশিত Van Halen ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবাম থেকেই তার অসাধারণ প্রতিভা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। “Eruption” নামের ছোট একটি গিটার সলো ট্র্যাক আজও গিটার শিক্ষার্থীদের জন্য এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়।

এডির বাজানোর স্টাইলে ছিল শক্তিশালী রক এনার্জি, অসাধারণ টেকনিক এবং সুরের প্রতি গভীর অনুভূতি। শুধু দ্রুত বাজানো নয়, তিনি গিটার সাউন্ড ডিজাইনেও নতুনত্ব এনেছিলেন। তার তৈরি “Frankenstrat” গিটার এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পরিবর্তন গিটার প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত খুলে দেয়।

অনেক সংগীত সমালোচক মনে করেন, আধুনিক রক গিটারিস্টদের উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছেন এডি ভ্যান হ্যালেন। তার বাজানোর গতি, শক্তি এবং সৃজনশীলতা গিটার সংগীতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

২০২০ সালে তার মৃত্যু হলেও এডি ভ্যান হ্যালেনের গিটার সুর আজও সংগীতপ্রেমীদের কাছে কিংবদন্তি হয়ে আছে।


৪. এরিক ক্ল্যাপটন (Eric Clapton)

Image

এরিক ক্ল্যাপটন ব্লুজ ও রক সংগীতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গিটারিস্ট হিসেবে পরিচিত। তাকে প্রায়ই “Slowhand” নামে ডাকা হয়। তার গিটার বাজানোর স্টাইলে রয়েছে গভীর আবেগ, নিখুঁত টেকনিক এবং অসাধারণ সুরেলা ভাব।

ক্ল্যাপটন একমাত্র শিল্পী যিনি তিনবার Rock and Roll Hall of Fame–এ অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন—একবার একক শিল্পী হিসেবে এবং দুবার ব্যান্ড সদস্য হিসেবে (The Yardbirds ও Cream)। এটি তার সংগীতজীবনের বিশাল প্রভাবেরই প্রমাণ।

তার বিখ্যাত গানগুলোর মধ্যে “Layla”, “Tears in Heaven” এবং “Wonderful Tonight” বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এসব গানে তার গিটার সুর শ্রোতার হৃদয়ে গভীর আবেগ সৃষ্টি করে।

ব্লুজ কিংবদন্তি বি.বি. কিং একবার বলেছিলেন—ক্ল্যাপটনের মতো নিখুঁতভাবে নোট ধরে রাখতে পারে এমন গিটারিস্ট খুব কমই আছে। তার বাজানোতে কখনো অপ্রয়োজনীয় জটিলতা থাকে না; বরং প্রতিটি নোটই সঠিক অনুভূতি প্রকাশ করে।

ক্ল্যাপটনের সংগীতে ব্লুজের ঐতিহ্য স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। তিনি রবার্ট জনসনের মতো পুরোনো ব্লুজ শিল্পীদের সংগীত নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

আজও তিনি গিটার সংগীতের এক জীবন্ত কিংবদন্তি।


৫. স্ল্যাশ (Slash)

Image

স্ল্যাশ মূলত বিখ্যাত হার্ড রক ব্যান্ড Guns N' Roses–এর লিড গিটারিস্ট হিসেবে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেন। তার আইকনিক টপ হ্যাট, কোঁকড়ানো চুল এবং লেস পল গিটার তাকে রক ইতিহাসের অন্যতম পরিচিত চেহারায় পরিণত করেছে।

তার বাজানোর স্টাইলে ব্লুজ, হার্ড রক এবং ক্লাসিক রকের অসাধারণ মিশ্রণ রয়েছে। বিশেষ করে “Sweet Child O' Mine” গানের উদ্বোধনী গিটার রিফ সংগীত ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত রিফ হিসেবে বিবেচিত।

“November Rain” গানের দীর্ঘ গিটার সলো স্ল্যাশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ। এই সলোতে তিনি ধীরে ধীরে আবেগ বাড়িয়ে এমন এক নাটকীয় সুর তৈরি করেন যা শ্রোতাদের গভীরভাবে স্পর্শ করে।

স্ল্যাশের বাজানোর বিশেষত্ব হলো তার স্বতঃস্ফূর্ততা। অনেক সময় স্টুডিওতে গান শুনে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সলো তৈরি করতেন, যা পরে অ্যালবামের চূড়ান্ত সংস্করণেই থেকে যেত।

তার সংগীতে টেকনিকের পাশাপাশি আবেগও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণেই অনেক শ্রোতার কাছে স্ল্যাশ শুধু একজন দক্ষ গিটারিস্ট নন, বরং একজন অনুভূতিপূর্ণ সংগীতশিল্পী।

আজও রক গিটার বাজানোর ক্ষেত্রে স্ল্যাশ তরুণ শিল্পীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।


৬. ডেভিড গিলমোর (David Gilmour)

Image

ডেভিড গিলমোর মূলত কিংবদন্তি ব্যান্ড Pink Floyd–এর গিটারিস্ট হিসেবে পরিচিত। তার বাজানোর স্টাইল অন্য অনেক গিটারিস্টের তুলনায় ভিন্ন। তিনি খুব দ্রুত বাজানোর চেয়ে আবেগপূর্ণ এবং সুরেলা সলো তৈরিতে বেশি গুরুত্ব দেন।

“Comfortably Numb” গানের গিটার সলো প্রায়ই সংগীত ইতিহাসের সেরা সলোগুলোর মধ্যে গণ্য করা হয়। এই সলোতে গিলমোর প্রতিটি নোটকে এমনভাবে ব্যবহার করেছেন যেন গিটার নিজেই কথা বলছে।

গিলমোরের গিটার সাউন্ড অত্যন্ত পরিষ্কার এবং আবেগময়। তিনি বিভিন্ন ইফেক্ট ব্যবহার করে দীর্ঘ, ভাসমান সুর তৈরি করেন যা শ্রোতাকে এক ধরনের সংগীতময় ট্রান্সে নিয়ে যায়।

“Shine On You Crazy Diamond”, “Time”, “Money” এবং “Echoes” এর মতো গানগুলোতে তার গিটার কাজ Pink Floyd–এর সাউন্ডকে অনন্য করে তুলেছে।

গিলমোর প্রমাণ করেছেন যে একজন মহান গিটারিস্ট হওয়ার জন্য শুধু দ্রুত বাজানোই যথেষ্ট নয়। বরং সঠিক নোট সঠিক সময়ে বাজানোর ক্ষমতাই একজন শিল্পীকে আলাদা করে তোলে।

এই কারণেই ডেভিড গিলমোরকে অনেক সংগীতপ্রেমী গিটারের “মেলোডির মাস্টার” বলে মনে করেন।


৭. স্টিভি রে ভন (Stevie Ray Vaughan)

Image

স্টিভি রে ভন ব্লুজ গিটারের পুনর্জাগরণের অন্যতম প্রধান শিল্পী। ১৯৮০–এর দশকে যখন ব্লুজ সংগীত কিছুটা জনপ্রিয়তা হারাচ্ছিল, তখন তার শক্তিশালী গিটার বাজানো আবার এই ধারাকে নতুন করে জনপ্রিয় করে তোলে।

তার বাজানোর স্টাইল ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী এবং আবেগপূর্ণ। তিনি ব্লুজ, রক এবং জ্যাজের উপাদান একত্র করে এক অনন্য সাউন্ড তৈরি করেছিলেন।

“Texas Flood”, “Pride and Joy” এবং “Little Wing” এর মতো গানগুলোতে তার গিটার কাজ অসাধারণ। বিশেষ করে তার লাইভ পারফরম্যান্সে তিনি দীর্ঘ ও শক্তিশালী সলো বাজিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করতেন।

অনেক সমালোচক মনে করেন, জিমি হেন্ডরিক্সের পর সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্লুজ–রক গিটারিস্ট ছিলেন স্টিভি রে ভন।

দুঃখজনকভাবে ১৯৯০ সালে একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। তবুও তার সংগীত আজও ব্লুজ গিটারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।


৮. কার্ক হ্যামেট (Kirk Hammett)

Image

কার্ক হ্যামেট বিখ্যাত থ্রাশ মেটাল ব্যান্ড Metallica–এর লিড গিটারিস্ট। ১৯৮৩ সালে ব্যান্ডে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি Metallica–এর সাউন্ডকে গঠন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তার গিটার বাজানোর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো wah-wah পেডালের ব্যবহার। এই ইফেক্ট ব্যবহার করে তিনি গিটারে এক ধরনের স্বতন্ত্র শব্দ তৈরি করেন।

“Fade to Black”, “One”, “Master of Puppets” এবং “Enter Sandman” এর মতো গানগুলোতে তার সলো মেটাল সংগীতের ক্লাসিক উদাহরণ।

কার্ক হ্যামেটের গিটার বাজানোর মধ্যে জিমি হেন্ডরিক্স এবং জো স্যাট্রিয়ানির প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায়। তিনি শুধু দ্রুত বাজানোর জন্যই পরিচিত নন; বরং তার সলোতে আবেগ এবং নাটকীয়তা থাকে।

Metallica–এর প্রতিটি অ্যালবামে তিনি ভিন্ন ধরনের গিটার স্টাইল ব্যবহার করেছেন, যা তাকে অন্যান্য মেটাল গিটারিস্টদের থেকে আলাদা করে।

আজও মেটাল সংগীতের ইতিহাসে কার্ক হ্যামেট অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গিটারিস্ট।


৯. টনি আইওমি (Tony Iommi)

Image

টনি আইওমিকে প্রায়ই হেভি মেটাল গিটারের জনক বলা হয়। তিনি কিংবদন্তি ব্যান্ড Black Sabbath–এর প্রতিষ্ঠাতা গিটারিস্ট এবং তাদের সাউন্ডের প্রধান নির্মাতা।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে একটি কারখানার দুর্ঘটনায় তার ডান হাতের দুটি আঙুলের ডগা কেটে যায়। কিন্তু তিনি হার মানেননি। বিশেষ কৃত্রিম আঙুল তৈরি করে এবং গিটার টিউনিং পরিবর্তন করে তিনি নতুন ধরনের সাউন্ড তৈরি করেন।

এই পরিবর্তনের ফলেই Black Sabbath–এর ভারী ও অন্ধকার সাউন্ড তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে হেভি মেটাল সংগীতের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

“Iron Man”, “Paranoid”, “War Pigs” এবং “Black Sabbath” এর মতো গানগুলোর শক্তিশালী গিটার রিফ সংগীত ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।

টনি আইওমির বাজানো মূলত রিফ–কেন্দ্রিক। তার তৈরি অনেক রিফ আজও মেটাল সংগীতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।

তার দৃঢ়তা এবং সৃজনশীলতা প্রমাণ করে যে সত্যিকারের শিল্পীরা বাধাকে শক্তিতে পরিণত করতে পারেন।


১০. ব্রায়ান মে (Brian May)

Image

ব্রায়ান মে কিংবদন্তি রক ব্যান্ড Queen–এর লিড গিটারিস্ট এবং অন্যতম সুরকার। তার গিটার বাজানোর স্টাইল অত্যন্ত স্বতন্ত্র এবং সৃজনশীল।

তিনি নিজেই তার বিখ্যাত “Red Special” গিটার তৈরি করেছিলেন, যা তার সাউন্ডকে অনন্য করে তুলেছে। এই গিটার ব্যবহার করে তিনি বহুস্তরীয় গিটার হারমনি তৈরি করতে পারতেন।

“Bohemian Rhapsody”, “We Will Rock You”, “Brighton Rock” এবং “Another One Bites the Dust” এর মতো গানগুলোতে তার গিটার কাজ অসাধারণ।

ব্রায়ান মের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো গিটারকে অর্কেস্ট্রার মতো ব্যবহার করা। তিনি একাধিক গিটার ট্র্যাক ব্যবহার করে জটিল হারমনি তৈরি করতেন, যা Queen–এর সংগীতকে নাটকীয় ও মহাকাব্যিক করে তোলে।

মজার বিষয় হলো, তিনি শুধু একজন সংগীতশিল্পী নন; তিনি একজন অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্টও।

গিটার বাজানোতে তার সৃজনশীলতা এবং বৈজ্ঞানিক মনোভাব তাকে সংগীত ইতিহাসে এক অনন্য শিল্পীতে পরিণত করেছে।

crossmenu