সোনার মজুদ শীর্ষ ১০ দেশ ২০২৬ | বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়?

gold
Category : ,

সোনা শুধু একটি মূল্যবান ধাতু নয়, এটি বিশ্ব অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সোনাকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ধরে রাখে, যা মুদ্রাস্ফীতি, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মুদ্রার অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করে। ২০২৬ সালের শুরুতে (সর্বশেষ উপলব্ধ তথ্য অনুসারে, যা সাধারণত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত), বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর অফিসিয়াল সোনার মজুদে কোনো বড় পরিবর্তন না ঘটলেও, সোনার দামের উল্লম্ফন এবং কিছু দেশের ক্রয় অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের সোনার মজুদ (টন এককে)

বিশ্ব গোল্ড কাউন্সিল (World Gold Council), ট্রেডিং ইকোনমিক্স এবং আইএমএফের তথ্য অনুসারে শীর্ষ দেশগুলো নিম্নরূপ:

  1. যুক্তরাষ্ট্র — ৮,১৩৩ টন বিশ্বের সবচেয়ে বড় সোনার মজুদধারী দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অটুট। এটি তাদের মোট রিজার্ভের প্রায় ৮০% এরও বেশি অংশ দখল করে। ফোর্ট নক্স এবং অন্যান্য সুরক্ষিত স্থানে এই সোনা সংরক্ষিত।
  2. জার্মানি — ৩,৩৫০ টন ইউরোপের সবচেয়ে বড় ধারক। জার্মানি সম্প্রতি তাদের সোনা দেশে ফিরিয়ে এনেছে এবং এটি তাদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতীক।
  3. ইতালি — ২,৪৫২ টন ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ইতালির সোনা মূলত রোমের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত।
  4. ফ্রান্স — ২,৪৩৭ টন ফ্রান্সের সোনা তাদের মোট রিজার্ভের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এবং এটি দেশের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
  5. রাশিয়া — ২,৩৩০ টন গত এক দশকে রাশিয়া সোনা ক্রয়ে সবচেয়ে সক্রিয় ছিল। এটি ডলার-নির্ভরতা কমানোর কৌশলের অংশ।
  6. চীন — ২,৩০৪ টন চীন ধীরে ধীরে সোনা বাড়িয়ে চলেছে। তাদের অফিসিয়াল রিপোর্টিং কখনো কখনো বিতর্কিত হলেও, এটি বিশ্বের শীর্ষ ছয়ের মধ্যে রয়েছে।
  7. সুইজারল্যান্ড — ১,০৪০ টন সুইজারল্যান্ডের সোনা তাদের নিরপেক্ষতা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার প্রতীক।
  8. ভারত — ৮৮০ টন ভারত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সোনা ক্রয় বাড়িয়েছে। এটি দেশের রিজার্ভ বৈচিত্র্যকরণের অংশ।
  9. জাপান — ৮৪৬ টন জাপানের সোনা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল।
  10. তুরস্ক / অন্যান্য — প্রায় ৬০০+ টন (তুরস্ক সাম্প্রতিক ক্রয়ে এগিয়ে এসেছে)।

বাংলাদেশের অবস্থান

বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল সোনার মজুদ ২০২৫ সালের শেষভাগ পর্যন্ত ১৪.২৮ টন। এই পরিমাণ ২০২৪ সাল থেকে অপরিবর্তিত রয়েছে। বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান প্রায় ৬৪-৬৬তম এর মধ্যে।

এই ১৪.২৮ টন সোনার বাজারমূল্য (২০২৬ সালের শুরুতে সোনার দাম প্রায় ৫,০০০+ ডলার প্রতি আউন্স হলে) প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। তবে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সোনার অংশ খুবই কম (প্রায় ২-৩%)।

বাংলাদেশের সোনার মজুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সোনা ক্রয় অব্যাহত রেখেছে। তবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ বজায় রাখা এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণ বেশি অগ্রাধিকার পায়।

কেন সোনার মজুদ গুরুত্বপূর্ণ?

  • নিরাপত্তা: যুদ্ধ, মহামারী বা অর্থনৈতিক সংকটে সোনা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সম্পদ।
  • বৈচিত্র্যকরণ: ডলার, ইউরো বা অন্যান্য মুদ্রার পাশাপাশি সোনা রাখলে ঝুঁকি কমে।
  • মুদ্রাস্ফীতি বিরোধী: সোনার দাম সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির সাথে বাড়ে।
  • ভূ-রাজনৈতিক কারণ: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মার্কিন-চীন উত্তেজনা ইত্যাদি সোনা ক্রয়কে উৎসাহিত করছে।

২০২৬ সালে সোনার দাম ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য তাদের মজুদের মূল্য বাড়িয়েছে। বাংলাদেশের জন্যও এটি একটি সুযোগ—যদি ভবিষ্যতে সোনা ক্রয় বাড়ানো যায়, তাহলে রিজার্ভের গুণগত মান উন্নত হবে।

সোনা কেবল ধনী দেশের সম্পদ নয়, এটি বিশ্ব অর্থনীতির একটি স্থিতিশীল অংশ। আপনার মতামত কী? বাংলাদেশের সোনার মজুদ আরও বাড়ানো উচিত কি না? কমেন্টে জানান!

(তথ্যসূত্র: World Gold Council, Trading Economics, IMF IFS, January 2026 updates)

magnifiercrossmenu