
সোনা শুধু একটি মূল্যবান ধাতু নয়, এটি বিশ্ব অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সোনাকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ধরে রাখে, যা মুদ্রাস্ফীতি, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মুদ্রার অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করে। ২০২৬ সালের শুরুতে (সর্বশেষ উপলব্ধ তথ্য অনুসারে, যা সাধারণত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত), বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর অফিসিয়াল সোনার মজুদে কোনো বড় পরিবর্তন না ঘটলেও, সোনার দামের উল্লম্ফন এবং কিছু দেশের ক্রয় অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্ব গোল্ড কাউন্সিল (World Gold Council), ট্রেডিং ইকোনমিক্স এবং আইএমএফের তথ্য অনুসারে শীর্ষ দেশগুলো নিম্নরূপ:
বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল সোনার মজুদ ২০২৫ সালের শেষভাগ পর্যন্ত ১৪.২৮ টন। এই পরিমাণ ২০২৪ সাল থেকে অপরিবর্তিত রয়েছে। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান প্রায় ৬৪-৬৬তম এর মধ্যে।
এই ১৪.২৮ টন সোনার বাজারমূল্য (২০২৬ সালের শুরুতে সোনার দাম প্রায় ৫,০০০+ ডলার প্রতি আউন্স হলে) প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। তবে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সোনার অংশ খুবই কম (প্রায় ২-৩%)।
বাংলাদেশের সোনার মজুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সোনা ক্রয় অব্যাহত রেখেছে। তবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ বজায় রাখা এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণ বেশি অগ্রাধিকার পায়।
২০২৬ সালে সোনার দাম ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য তাদের মজুদের মূল্য বাড়িয়েছে। বাংলাদেশের জন্যও এটি একটি সুযোগ—যদি ভবিষ্যতে সোনা ক্রয় বাড়ানো যায়, তাহলে রিজার্ভের গুণগত মান উন্নত হবে।
সোনা কেবল ধনী দেশের সম্পদ নয়, এটি বিশ্ব অর্থনীতির একটি স্থিতিশীল অংশ। আপনার মতামত কী? বাংলাদেশের সোনার মজুদ আরও বাড়ানো উচিত কি না? কমেন্টে জানান!
(তথ্যসূত্র: World Gold Council, Trading Economics, IMF IFS, January 2026 updates)