২০২৬ সালের পাঠতালিকা সাজাতে চাইলে গল্পগ্রন্থের দিকে একটু আলাদা নজর দিতেই হয়। উপন্যাস আমাদের দীর্ঘ যাত্রায় নিয়ে যায়, কিন্তু গল্প—তা ক্ষণিকের মধ্যেই হৃদয়ের গভীরতম স্থানে পৌঁছে যায়। সমকালীন বাংলা সাহিত্যে গল্প এখন নানা মাত্রায় বিকশিত—গ্রামবাংলার শেকড় থেকে শহুরে একাকিত্ব, ব্যক্তিমানুষের মনস্তত্ত্ব থেকে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ—সবকিছুই জায়গা করে নিচ্ছে ছোট পরিসরে বড় বয়ানে।
এই তালিকায় রাখা হয়েছে এমন ১০টি গল্পগ্রন্থ, যেগুলো ভাষা, ভাবনা ও বিষয়বৈচিত্র্যের কারণে ২০২৬ সালে আপনার ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা উচিত। এখানে যেমন আছে শেকড়ছেঁড়া মানুষের বেদনা, তেমনি আছে রম্যরস, সামাজিক ব্যঙ্গ, প্রতীকী রচনা ও গভীর দার্শনিক ভাবনা। নতুন ও প্রতিষ্ঠিত—দুই প্রজন্মের লেখকরাই এই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন।
যাঁরা নিয়মিত গল্প পড়েন কিংবা নতুন বছরে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে চান—তাঁদের জন্য এই তালিকা হতে পারে একটি পরিপূর্ণ সূচনা। চলুন, একে একে জেনে নেওয়া যাক বইগুলোর ভেতরের জগৎ সম্পর্কে।
১. হেমলকের ঘ্রাণ — (মোস্তাফিজ ফরায়েজী)

এই বইয়ে রয়েছে ৮টি স্বতন্ত্র গল্প, যেগুলো ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ ও প্রেক্ষাপটে নির্মিত। অস্তিত্ব, সম্পর্ক, স্মৃতি ও মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন এখানে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
মোস্তাফিজ ফরায়েজীর লেখায় রয়েছে কাব্যিকতা ও দার্শনিক গভীরতা। গল্পগুলো ধীরে ধীরে পাঠকের ভেতরে প্রবেশ করে।
গভীর ও শিল্পিত গল্পের অনুরাগীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
রকমারি থেকে কিনুন: Buy Now
২. শেকড়ছেঁড়া মানুষের গল্প — (রফিকুর রশীদ)

রফিকুর রশীদের এই গল্পগ্রন্থে উঠে এসেছে প্রান্তিক ও শেকড়ছেঁড়া মানুষের জীবনসংগ্রাম। গ্রাম থেকে শহরে আসা মানুষ, বাস্তুচ্যুত পরিবার, সামাজিক অবহেলায় বেঁচে থাকা চরিত্র—সবাই এখানে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। লেখকের ভাষা সরল হলেও গভীর আবেগময়; তিনি অতিরঞ্জন না করে বাস্তবতাকেই শিল্পে রূপ দিয়েছেন।
প্রতিটি গল্পে এক ধরনের নিঃশব্দ প্রতিবাদ রয়েছে—অবিচার, দারিদ্র্য ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে। চরিত্রগুলো কখনও ভাঙে, কখনও লড়ে, কখনও চুপচাপ সহ্য করে—কিন্তু পাঠকের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে যায়।
২০২৬ সালে সমাজ-বাস্তবতার গল্প পড়তে চাইলে এই বইটি আপনার সংগ্রহে রাখা জরুরি। এটি কেবল গল্প নয়, সময়ের দলিল।
রকমারি থেকে কিনুন: Buy Now
৩. তুলসীমাটি — (পিন্টু রহমান)

গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মিত এই গল্পসংকলন মাটির গন্ধে ভরপুর। লোকজ সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও মানবিক সম্পর্ক এখানে বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।
পিন্টু রহমানের ভাষা সহজ, কিন্তু হৃদয়গ্রাহী। চরিত্রগুলো বাস্তব ও প্রাণবন্ত।
গ্রামীণ জীবনের গল্প ভালোবাসলে এটি ২০২৬ সালের জন্য অবশ্যসংগ্রহযোগ্য।
রকমারি থেকে কিনুন: Buy Now
৪. গল্প সংগ্রহ — (শিমুল মাহমুদ)

শিমুল মাহমুদের ‘গল্প সংগ্রহ’ একটি বৈচিত্র্যময় সংকলন। এখানে প্রেম, বিচ্ছেদ, রাজনৈতিক টানাপোড়েন, ব্যক্তিগত স্বপ্ন ও ব্যর্থতার গল্প একসঙ্গে ধরা দিয়েছে। লেখকের বর্ণনাভঙ্গি কাব্যিক, কিন্তু গল্পের কাঠামো দৃঢ়।
প্রতিটি গল্পে তিনি মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্বকে সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরেছেন। ছোট ছোট ঘটনার ভেতর লুকিয়ে থাকা বড় অনুভূতিগুলোকে তিনি অত্যন্ত দক্ষতায় প্রকাশ করেছেন।
যাঁরা এক বইয়ে নানা স্বাদের গল্প চান—তাঁদের জন্য এটি আদর্শ। সংগ্রহযোগ্য একটি বই হিসেবে এটি ২০২৬ সালের পাঠতালিকায় অবশ্যই রাখা উচিত।
রকমারি থেকে কিনুন: Buy Now
৫. গোলাপ নির্মাণের গণিত — (আবু হেনা মোস্তফা এনাম)

শিরোনামেই আছে প্রতীকী ব্যঞ্জনা। গোলাপ নির্মাণ—অর্থাৎ সৌন্দর্য সৃষ্টি; আর তার গণিত—অর্থাৎ যুক্তি ও নির্মাণপ্রক্রিয়া। এই বইয়ের গল্পগুলো প্রেম, দর্শন ও সমাজবাস্তবতাকে এক অনন্য বয়ানে উপস্থাপন করে।
লেখক ভাবনার গভীরে প্রবেশ করেন। তাঁর গল্পে যুক্তি ও আবেগ পাশাপাশি চলে। কখনও বিমূর্ত, কখনও স্পষ্ট—কিন্তু সবসময়ই চিন্তার খোরাক জোগায়।
দর্শনঘেঁষা ও ভাবনাসমৃদ্ধ গল্প পড়তে চাইলে এটি ২০২৬ সালের জন্য একটি বিশেষ সংযোজন।
রকমারি থেকে কিনুন: Buy Now
৬. কান্না হাসি রম্য রাশি — (তরুন ইউসুফ)

হাসি ও কান্নার মিশেলে তৈরি এই রম্যগল্প সংকলন পাঠককে বিনোদনের পাশাপাশি ভাবনার জায়গাও দেয়। তরুন ইউসুফ সমাজের ছোটখাটো অসঙ্গতিকে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে তুলে ধরেন।
হালকা ভাষায় গভীর কথা বলার ক্ষমতা তাঁর লেখার প্রধান শক্তি। গল্পগুলো পড়তে পড়তে পাঠক যেমন হাসবেন, তেমনি কোথাও না কোথাও নিজের বাস্তবতার প্রতিফলনও খুঁজে পাবেন।
২০২৬ সালে মন ভালো করার মতো অথচ অর্থবহ গল্প চাইলে এটি রাখুন সংগ্রহে।
রকমারি থেকে কিনুন: Buy Now
৭. মেঘ ও মানুষের গল্প — (মেহেদী ধ্রুব)
এই বইয়ে প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে গল্পগুলো গড়ে উঠেছে। মেঘ এখানে শুধু প্রকৃতির উপাদান নয়, বরং মানুষের অনুভূতির প্রতীক।
মেহেদী ধ্রুবের ভাষা কাব্যময় ও আবেগঘন। গ্রামীণ পটভূমি ও শহুরে মানসিকতার মিশ্রণে গল্পগুলো এক বিশেষ স্বাদ তৈরি করেছে।
যাঁরা প্রকৃতি-প্রতীকী গল্প ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য এটি অবশ্যপাঠ্য।
রকমারি থেকে কিনুন: Buy Now
৮. বিজ্ঞাপন চুরি হয়ে যাচ্ছে — (কবীর রানা)
নাম থেকেই বোঝা যায়—এখানে আছে তীক্ষ্ণ সামাজিক ব্যঙ্গ। আধুনিক ভোক্তাবাদ, মিডিয়া সংস্কৃতি ও নৈতিক অবক্ষয়কে কেন্দ্র করে গল্পগুলো রচিত।
কবীর রানা তীব্র ভাষায় নয়, বরং সূক্ষ্ম রসের মাধ্যমে সমাজের অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরেছেন। পাঠক হাসতে হাসতে অস্বস্তি অনুভব করবেন—এটাই বইটির শক্তি।
সমসাময়িক বাস্তবতার প্রতিফলন দেখতে চাইলে এটি সংগ্রহে রাখুন।
রকমারি থেকে কিনুন: Buy Now
৯. টয়োটা করোলা — টয়োটা করোলা (মহিউদ্দিন মোহাম্মদ)

একটি গাড়ির নাম দিয়ে গল্পগ্রন্থের শিরোনাম—এতেই আছে আধুনিকতার ইঙ্গিত। শহুরে জীবন, মধ্যবিত্তের স্বপ্ন ও সামাজিক প্রতিযোগিতা এই বইয়ের মূল বিষয়।
মহিউদ্দিন মোহাম্মদ বাস্তব জীবনের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষক। তাঁর গল্পে চরিত্রগুলো অত্যন্ত জীবন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য।
শহুরে বাস্তবতা জানতে চাইলে এটি আপনার সংগ্রহে রাখতেই পারেন।
রকমারি থেকে কিনুন: Buy Now
১০. কাঠপরাণের দ্রোহ — (রিপনচন্দ্র মল্লিক)

এই বইয়ের গল্পগুলো প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ভাষায় লেখা। সামাজিক অবিচার, শ্রেণিবিভাজন ও মানবিক সংকট এখানে প্রধান উপজীব্য।
রিপনচন্দ্র মল্লিক শক্তিশালী ও সরাসরি বয়ানে গল্প বলেন। তাঁর চরিত্রগুলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়—কখনও সফল, কখনও ব্যর্থ; কিন্তু তাদের সাহস পাঠককে অনুপ্রাণিত করে।
২০২৬ সালে যদি চিন্তাশীল ও প্রতিবাদী গল্প পড়তে চান—তাহলে ‘কাঠপরাণের দ্রোহ’ অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন।
রকমারি থেকে কিনুন: Buy Now