অনুসন্ধান করুন

চাঁদের পথে টয়লেট সংকট : Artemis II mission-এর অদ্ভুত অভিজ্ঞতা

📅 সর্বশেষ আপডেট: এপ্রিল ৫, ২০২৬
চাঁদের পথে টয়লেট সংকট : Artemis II mission-এর অদ্ভুত অভিজ্ঞতা
📢 শেয়ার করুন:

চাঁদের দিকে মানুষের প্রত্যাবর্তনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখছে NASA-এর Artemis II mission। পৃথিবী থেকে প্রায় ৩ লাখ কিলোমিটার দূরে, মহাকাশযান Orion capsule-এ ভেসে চলা চার নভোচারীর যাত্রা বেশ শান্তই ছিল—কিন্তু হঠাৎই সামনে আসে এক অপ্রত্যাশিত সমস্যা: টয়লেট!


কী ঘটেছিল?

মিশনের তৃতীয় দিনের শেষে, Orion capsule-এর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে প্রস্রাব নিষ্কাশনের লাইনে জমে থাকা বরফ বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

মিশনের ফ্লাইট ডিরেক্টর Judd Frieling জানান, ভেন্ট লাইনে প্রস্রাব জমে বরফ হয়ে গিয়েছিল, ফলে সেটি বাইরে বের করা যাচ্ছিল না।


সূর্যের তাপে সমাধান!

সমস্যা সমাধানে এক অভিনব পদ্ধতি নেয়া হয়—মহাকাশযানটিকে সূর্যের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়, যাতে বরফ গলে যায়।
এই কৌশল আংশিক সফল হয় এবং কিছুটা বর্জ্য বাইরে বের করা সম্ভব হয়।

তবে তখনও টয়লেট পুরোপুরি সচল হয়নি। মিশন কন্ট্রোল প্রথমে জানায়:

“টয়লেট এখন শুধু কঠিন বর্জ্যের জন্য ব্যবহারযোগ্য।”

অবশেষে, দীর্ঘ চেষ্টার পর পুরো সিস্টেম আবার চালু হয়। তখন নভোচারী Christina Koch মজার ছলে বলেন—
“And the crew rejoices!”


নভোচারীদের “স্পেস প্লাম্বার” মুহূর্ত

মিশনের শুরুতেই আরেকটি সমস্যা ধরা পড়ে—টয়লেটের পাম্প কাজ করছিল না। পরে জানা যায়, পর্যাপ্ত পানি না দেওয়ায় পাম্পটি ঠিকমতো কাজ করছিল না।

এই সমস্যা সমাধানের পর Christina Koch নিজেকে “স্পেস প্লাম্বার” বলে মজা করেন।


মহাকাশে ঝলমলে প্রস্রাব!

মহাকাশে প্রস্রাব বাইরে বের হলে সেটি ছোট ছোট ঝলমলে কণার মতো ভেসে যেতে দেখা যায়—যা দেখতে অনেকটা উজ্জ্বল রত্নের মতো লাগে। এই দৃশ্য নভোচারীরা ক্যামেরায় ধারণও করেছেন।


টয়লেট—মহাকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র!

নভোচারীদের মতে, টয়লেট মহাকাশযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কারণ, মাধ্যাকর্ষণ না থাকায় বর্জ্য নিষ্কাশন সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল।

সমস্যার সময় নভোচারীরা বাধ্য হয়ে ব্যবহার করেন একটি বিকল্প ব্যবস্থা—Collapsible Contingency Urinal (CCU), যা অনেকটা পুরনো যুগের পদ্ধতির মতো।


অ্যাপোলো যুগের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা

বর্তমান সমস্যাটি মনে করিয়ে দেয় Apollo 10 মিশনের কথা। তখন কোনো টয়লেটই ছিল না।

নভোচারীরা ব্যাগ ব্যবহার করতেন—যা অনেক সময় ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করত। এমনকি একবার ক্যাপসুলের ভেতর ভাসমান বর্জ্য নিয়ে চরম অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল!


আধুনিক প্রযুক্তি, তবুও সমস্যা!

বর্তমান Orion capsule-এ ব্যবহৃত হচ্ছে উন্নত “Universal Waste Management System (UWMS)”, যা তৈরি করেছে Collins Aerospace।

এই প্রযুক্তি SpaceX Crew Dragon এবং International Space Station-এর অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

তবুও, বাস্তব মহাকাশযাত্রায় এমন সমস্যা নতুন নয়। ২০২১ সালে Crew Dragon মিশনেও টয়লেট লিক হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।


মহাকাশে যাত্রা যতই আধুনিক হোক, ছোট একটি টয়লেট সমস্যাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
Artemis II mission আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মহাকাশ অভিযানে শুধু বড় প্রযুক্তি নয়, ছোটখাটো বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মানুষ চাঁদে ফিরে যাওয়ার পথে—এমন “মানবিক” সমস্যাগুলোই হয়তো আমাদের সবচেয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা এনে দেয়।

🏷️ ট্যাগ: #বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি #Artemis II #মহাকাশ অভিযান #নাসা #চাঁদ মিশন #Orion ক্যাপসুল #স্পেস নিউজ #স্পেস টেকনোলজি #NASA Artemis প্রোগ্রাম #নভোচারী জীবন #মহাকাশ টয়লেট সমস্যা #মহাকাশ খবর #চাঁদ অভিযান ২০২৬ #মহাকাশযান সমস্যা #Universal Waste Management System

এই বিভাগের আরও রিভিউ ও ব্লগ

সবগুলো দেখুন »

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও মেশিন লার্নিং কী?

বর্তমান বিশ্বের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সবচেয়ে আলোচিত দুটি শব্দ হলো Artificial Intelligence (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং Machine Learning (ML) বা...

Magic of Magnet – চুম্বকের জাদুকরী জগৎ জানার মজার বিজ্ঞান কিট Science
★ ৪.৯

Magic of Magnet – চুম্বকের জাদুকরী জগৎ জানার মজার বিজ্ঞান কিট

শিশুদের বিজ্ঞানভীতি দূর করে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তৈরি করতে OnnoRokom BigganBaksho-এর Magic of Magnet একটি চমৎকার শিক্ষামূলক বিজ্ঞান কিট। ৭...

World Globe  – বিশ্বকে জানার সহজ ও কার্যকর শিক্ষাসঙ্গী Science
★ ৫.০

World Globe – বিশ্বকে জানার সহজ ও কার্যকর শিক্ষাসঙ্গী

বর্তমান যুগে প্রযুক্তির কল্যাণে পৃথিবীর যেকোনো স্থানের তথ্য মুহূর্তেই জানা সম্ভব হলেও একটি বিশ্বমানচিত্র গ্লোবের গুরুত্ব এখনো কমেনি। বিশেষ করে...

পৃথিবীর সেরা ১০ জন পদার্থবিজ্ঞানী

পদার্থবিজ্ঞান এমন একটি বিজ্ঞান শাখা, যা আমাদের মহাবিশ্বকে বোঝার সবচেয়ে গভীর ও মৌলিক পথ দেখায়। আমরা কীভাবে চলি, আলো কীভাবে...