অনুসন্ধান করুন

পৃথিবীর সেরা ১০ জন পদার্থবিজ্ঞানী

📅 সর্বশেষ আপডেট: মে ১১, ২০২৬
পৃথিবীর সেরা ১০ জন পদার্থবিজ্ঞানী
📢 শেয়ার করুন:

পদার্থবিজ্ঞান এমন একটি বিজ্ঞান শাখা, যা আমাদের মহাবিশ্বকে বোঝার সবচেয়ে গভীর ও মৌলিক পথ দেখায়। আমরা কীভাবে চলি, আলো কীভাবে ছড়ায়, সময় কেন পরিবর্তিত হয়, কিংবা মহাকাশে গ্রহ-নক্ষত্র কীভাবে ঘোরে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অসংখ্য বিজ্ঞানী নিরলস গবেষণা করেছেন। তাদের মধ্য থেকে কিছু অসাধারণ প্রতিভা তাদের চিন্তাশক্তি, আবিষ্কার এবং তত্ত্ব দিয়ে পুরো পৃথিবীর জ্ঞানভাণ্ডারকে নতুনভাবে সাজিয়েছেন।

এই মহান পদার্থবিজ্ঞানীরা শুধু তত্ত্বই দেননি, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রযুক্তির ভিত্তি তৈরি করেছেন। বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট, মেডিকেল ইমেজিং—এসব কিছুই তাদের আবিষ্কারের উপর দাঁড়িয়ে আছে। তাদের কাজের প্রভাব এতটাই গভীর যে আজকের আধুনিক সভ্যতা তাদের ছাড়া কল্পনাও করা যায় না।

এই ব্লগে আমরা এমন ১০ জন কিংবদন্তি পদার্থবিজ্ঞানীর বিস্তারিত আলোচনা করবো, যাদের অবদান মানব ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রতিটি ব্যক্তির জীবন, গবেষণা এবং তাদের আবিষ্কারের প্রভাব এখানে সহজ, প্রাঞ্জল ও গভীরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।


১. Albert Einstein

https://images.openai.com/static-rsc-4/jFsuF0khXyZv_Qfyl8PVEDRvl3nXO-JuzVxJluP1_QVNNyd3V2P0ETweTkJ1_gGMVvypId3txD8GcIiJTae_6pJebXp7-OZ6YCx80jIq2t2yDWNOGNzDnZYenBYkeGHZ_cy9YMDap6ylwk_ZEDgb6JcXbxKGsoCZZ2kPi3E51EQ__C2NXCcDaaBbUcgilmT4?purpose=fullsize

আলবার্ট আইনস্টাইনকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সবচেয়ে প্রভাবশালী বিজ্ঞানী বলা হয়, আর সেটি একদমই অতিরঞ্জন নয়। তার আপেক্ষিকতার তত্ত্ব আমাদের সময় ও স্থান সম্পর্কে ধারণাকে আমূল বদলে দেয়। বিশেষ আপেক্ষিকতা দেখায় যে সময় ও দৈর্ঘ্য পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে, আর সাধারণ আপেক্ষিকতা ব্যাখ্যা করে কীভাবে ভর ও শক্তি স্থান-কালের বক্রতা তৈরি করে—যার ফলাফল আমরা মাধ্যাকর্ষণ হিসেবে দেখি।

তার বিখ্যাত সমীকরণ E=mc² শুধু একটি সূত্র নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে ভর ও শক্তি একই জিনিসের ভিন্ন রূপ। এই ধারণা পরবর্তীতে পারমাণবিক শক্তি, নিউক্লিয়ার প্রযুক্তি এবং মহাকাশ গবেষণায় বিপ্লব ঘটায়।

আইনস্টাইন ১৯২১ সালে নোবেল পুরস্কার পান ফটোইলেকট্রিক ইফেক্ট ব্যাখ্যার জন্য, যা কোয়ান্টাম তত্ত্বের বিকাশে বিশাল ভূমিকা রাখে।

তার চিন্তাধারা ছিল অত্যন্ত সৃজনশীল এবং প্রচলিত ধারণার বাইরে। তিনি শুধু একজন বিজ্ঞানীই নন, বরং একজন দার্শনিক চিন্তাবিদও ছিলেন, যিনি আমাদের মহাবিশ্বকে নতুন চোখে দেখতে শিখিয়েছেন।


২. Isaac Newton

https://images.openai.com/static-rsc-4/HJneVhoC3w9nWP8BVEZzI3Pk5X3NU5a7gC3ZVqAsVIkPXlSP-xzsL-eGNzFnpA_h91O5W4uYJriOqdBBIkLFtfvTqZcMunSjgv-PDpaQlBvEmIxjVKypvpjXbYJi9AR0VIEsjeF3K9tBO_MGrlbsLKvb0uAFoylUxJzfEaJLWlMgMoLa92P8xUm-P3iSs8Et?purpose=fullsize

আইজ্যাক নিউটন পদার্থবিজ্ঞানের এমন এক স্তম্ভ, যার অবদান ছাড়া আধুনিক বিজ্ঞান কল্পনা করা যায় না। তার প্রণীত গতির তিনটি সূত্র আমাদের বলে দেয় কীভাবে বস্তু চলে, থামে এবং গতি পরিবর্তন করে। এই সূত্রগুলো এতটাই মৌলিক যে আজও স্কুল থেকে শুরু করে মহাকাশ গবেষণা পর্যন্ত সর্বত্র ব্যবহৃত হয়।

তার সর্বজনীন মহাকর্ষ সূত্র পৃথিবী এবং মহাকাশের মধ্যে এক অসাধারণ সংযোগ স্থাপন করে। তিনি দেখান, যে শক্তির কারণে একটি আপেল মাটিতে পড়ে, সেই একই শক্তি গ্রহগুলোকে সূর্যের চারপাশে ঘোরায়। এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের গতিবিধি বোঝার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে।

নিউটন আলো নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন। প্রিজম ব্যবহার করে তিনি প্রমাণ করেন যে সাদা আলো আসলে বিভিন্ন রঙের সমষ্টি।

তার গবেষণা এতটাই শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে যে পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে বিজ্ঞানীরা তার কাজের উপর দাঁড়িয়ে আরও উন্নত তত্ত্ব তৈরি করতে সক্ষম হন।


৩. Marie Curie

https://images.openai.com/static-rsc-4/W3HUEYoiphq8fBSlFz6EiVyOdvqwCqQbp91oT7sRHidQRPIdDHWOhXRHMAKkY2xe21gMJo71xtsNHbPMaWU-tBqLoPGiPi95L54768hlNLy7FbAKQ6oRCVEOBRbkoC2t0mY5i7Xbd0XMy8g--rrp7ds8jnScxTJI_arkDIvn-Jja1UsmGyJi4OZXDmK-DGuS?purpose=fullsize

মেরি কুরি ছিলেন এক অসাধারণ সাহসী এবং প্রতিভাবান বিজ্ঞানী, যিনি রেডিওঅ্যাক্টিভিটি নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণা করেন। তিনি পোলোনিয়াম ও রেডিয়াম আবিষ্কার করে বিজ্ঞান জগতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। তার কাজ শুধু পদার্থবিজ্ঞানেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

তিনি প্রথম নারী হিসেবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন এবং একমাত্র ব্যক্তি যিনি দুটি ভিন্ন বিষয়ে—পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন—নোবেল পুরস্কার জিতেছেন।

তার গবেষণা ক্যান্সার চিকিৎসায় রেডিয়েশন থেরাপির পথ খুলে দেয়। তবে এই কাজ করতে গিয়ে তিনি নিজের স্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি সহ্য করেছেন, যা তার আত্মত্যাগের প্রমাণ।

মেরি কুরি প্রমাণ করেছেন, অধ্যবসায়, সাহস এবং জ্ঞানের প্রতি গভীর ভালোবাসা থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।


৪. Galileo Galilei

https://images.openai.com/static-rsc-4/p5ZqsNF90gX3M1X4kFY7pfK6RSLCx5hrlRrea7UPefJ4XsmfhZoZgNybtB-A6DQiEBvoY66Kk7dC7E4rw2Fp7bszbE9b351HPvTpnQplh1FjRGtg8TSyQC8zk9ScEcFm6lDhWkc2Gtdfk877KUqmdSIi9TXY0A-K-9iFNGNuInF78qjDIsFs2N2gY8UMFKZ5?purpose=fullsize

গ্যালিলিও গ্যালিলি আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম পথিকৃৎ, যিনি বিজ্ঞানের জগতে এক নতুন যুগের সূচনা করেন। তিনি প্রথমদের মধ্যে একজন, যিনি পরীক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক সত্য প্রমাণের উপর জোর দেন।

টেলিস্কোপ ব্যবহার করে তিনি চাঁদের গর্ত, বৃহস্পতির উপগ্রহ এবং শুক্রগ্রহের পর্যায় আবিষ্কার করেন, যা সেই সময়ের প্রচলিত বিশ্বাসকে চ্যালেঞ্জ করে। তিনি দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেন যে পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘোরে, যদিও এই মতবাদ তাকে ধর্মীয় বিরোধিতার মুখে ফেলে।

তার গবেষণা শুধু জ্যোতির্বিজ্ঞানে নয়, বরং গতি ও বলের ধারণাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

গ্যালিলিওর সাহসী অবস্থান এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি আধুনিক বিজ্ঞানকে স্বাধীনভাবে বিকশিত হতে সাহায্য করেছে।


৫. Nikola Tesla

https://images.openai.com/static-rsc-4/zz2DmohC3B-BX9Weo-o4JczCI21X_OX19xV-hcBPWBbSH4mG4M9cy2afPDUBf6WKA1n3BGHTWElngtF8c8SxLm4Ms6Lmpr3OSPf87sMZWy-g4QqQ35LCwh9Bb8AXwXoPRGt07RXVAt1VOg8M5-ihrjHQ_z2-TdQEL94J-ndAfSWf9X90KggxWTzEzRL_vZtK?purpose=fullsize

নিকোলা টেসলা ছিলেন এক অসাধারণ মেধাবী ও দূরদর্শী বিজ্ঞানী, যার আবিষ্কার আধুনিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তুলেছে। তিনি অল্টারনেটিং কারেন্ট (AC) প্রযুক্তির উন্নয়ন করেন, যা আজ বিশ্বের প্রায় সব বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়।

তার উদ্ভাবিত ইন্ডাকশন মোটর, ট্রান্সফরমার এবং ওয়্যারলেস শক্তি পরিবহনের ধারণা আধুনিক প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

টেসলার চিন্তাধারা ছিল সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তিনি এমন অনেক ধারণা দেন, যা তার জীবদ্দশায় পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হলেও পরবর্তীতে প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে।

তার জীবন কিছুটা রহস্যময় হলেও তার অবদান নিঃসন্দেহে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে।


৬. Stephen Hawking

https://images.openai.com/static-rsc-4/pMe_K4BthuL-Xc5HN7p2D2qOgBE4HPm6hAkp0hL_yzBcop3K1cTED6jD5Bb9Ctmmwc84KmqE8A29TO0R_SaFf1mU5ZGKmRl2BULNwoN5pfEcJY-XQAOLkqGxA8FIkLrIFUUZwX-diZUDQoaXKuuHii9MhBOC1n5KFIgZMQ8OUooAXoKrdlncJ9R0rbZAPUF6?purpose=fullsize

স্টিফেন হকিং আধুনিক যুগের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ী বিজ্ঞানীদের একজন। শারীরিকভাবে গুরুতর প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও তিনি মহাবিশ্বের গভীরতম রহস্য নিয়ে কাজ করেছেন।

তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো “হকিং রেডিয়েশন” তত্ত্ব, যা দেখায় যে ব্ল্যাক হোল সম্পূর্ণ কালো নয়, বরং ধীরে ধীরে শক্তি নির্গত করে। এই ধারণা কোয়ান্টাম তত্ত্ব ও মহাকর্ষের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ তৈরি করে।

তার গবেষণা মহাবিশ্বের উৎপত্তি, সময়ের প্রকৃতি এবং মহাজাগতিক বিবর্তন সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

তার লেখা “A Brief History of Time” বইটি সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করে তোলে।

হকিং প্রমাণ করেছেন, শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনোই মানসিক শক্তিকে থামাতে পারে না।


৭. Max Planck

https://images.openai.com/static-rsc-4/YD9TmKEI9-7hQ09xjSFx9ph-gCPSbBKzXSOGAiM9GaB85tlhgkyAPZAPe7NAJod58SzRmG9LeYIerYOjMkJmFgsn9eu1nNusdoiPwMnvs0snp5BN-HHtqkWu6IiT6i9yjPfIZefQWh1qZvlpTNeWvrUyfCcHqQQIdBXd0BEWvUvEAJnh5GKd2JHRJCWvMEcd?purpose=fullsize

ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক পদার্থবিজ্ঞানে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনেন কোয়ান্টাম তত্ত্বের মাধ্যমে। তিনি দেখান যে শক্তি ধারাবাহিকভাবে নয়, বরং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্যাকেট বা “কোয়ান্টা” আকারে বিনিময় হয়।

এই ধারণা তখনকার প্রচলিত পদার্থবিজ্ঞানের সাথে পুরোপুরি ভিন্ন ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে এটি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

প্ল্যাঙ্কের আবিষ্কৃত “প্ল্যাঙ্ক ধ্রুবক” কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তার কাজ ছাড়া আজকের আধুনিক প্রযুক্তি—যেমন সেমিকন্ডাক্টর, লেজার এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং—সম্ভব হতো না।

তিনি প্রমাণ করেছেন, ছোট একটি ধারণাও পুরো বিশ্বকে বদলে দিতে পারে।


৮. Niels Bohr

https://images.openai.com/static-rsc-4/8RLLCbCQGiHUovYWkilyO1tiCeREn2eM8Q6Wci4AZfBmdFmoXBf_x3JvxLBOvTfWH6IdYNawZ3axDT9jAJjEj6QhXX5zZmaNVsZdLJHpqb-IqhhzHzTQE_VFBZkCa8VT3V0alaOzQg-We9QlOYy1CsH26Ptz7eM0HUYNCmoPTdoDO8mIcZHv_OdGhYMSN32U?purpose=fullsize

নিলস বোর পরমাণুর গঠন সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে এক নতুন পর্যায়ে নিয়ে যান। তার প্রস্তাবিত বোর মডেল দেখায় যে ইলেকট্রন নির্দিষ্ট শক্তিস্তরে বা কক্ষপথে অবস্থান করে এবং নির্দিষ্ট শক্তি গ্রহণ বা ত্যাগ করে এক স্তর থেকে অন্য স্তরে যায়।

এই মডেল কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাথে পরমাণু কাঠামোকে যুক্ত করে, যা আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের দার্শনিক দিক নিয়েও কাজ করেন এবং “Complementarity Principle” ধারণা উপস্থাপন করেন, যা কোয়ান্টাম জগতের জটিলতা বোঝাতে সাহায্য করে।

তার গবেষণা শুধু তত্ত্বেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি পরবর্তী প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের অনুপ্রাণিত করেছেন এবং একটি শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক ঐতিহ্য তৈরি করেছেন।

নিলস বোরের কাজ আমাদের দেখায়, ক্ষুদ্র জগতের রহস্য বুঝতে গেলে চিন্তার নতুন দিক খুলতে হয়।


৯. Richard Feynman

https://images.openai.com/static-rsc-4/-yeQN9mipmGq4BZlj0YeeurMboJnEBpIsV-Gd_K-F6umVM-x8ufcUY1j9MJeozMvvp-gO1cE_lXYgpl6qUGnC9QqraLfUfxsR4YmfE9d0fsmsQzIGC3Sq9D_s1C2Fed2JPcdbH7DqZg7vpjm4A8OV0DckBkrMAdT-sDToukYm0SXX4JcuR8Vi5VqcCa_7p_d?purpose=fullsize

রিচার্ড ফাইনম্যান ছিলেন একাধারে অসাধারণ বিজ্ঞানী, শিক্ষক এবং গল্পকার। তিনি কোয়ান্টাম ইলেক্ট্রোডাইনামিক্স (QED) তত্ত্বকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য বিখ্যাত। তার উদ্ভাবিত “ফাইনম্যান ডায়াগ্রাম” জটিল গাণিতিক সমস্যাকে চিত্রের মাধ্যমে বোঝার সুযোগ দেয়, যা গবেষণাকে অনেক সহজ করে তোলে।

ফাইনম্যানের শিক্ষাদানের ধরন ছিল একেবারেই ভিন্ন। তিনি কঠিন বিষয়গুলোও এমনভাবে ব্যাখ্যা করতেন, যেন সাধারণ মানুষও তা বুঝতে পারে। তার বক্তৃতা এবং বই আজও শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়।

তিনি শুধু গবেষণাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং বিজ্ঞানকে আনন্দের সাথে শেখার একটি সংস্কৃতি তৈরি করেছিলেন।

তার কাজ আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে বিশাল ভূমিকা রেখেছে।

ফাইনম্যান আমাদের শিখিয়েছেন, বিজ্ঞান শুধু জটিল সমীকরণ নয়—এটি কৌতূহল, আনন্দ এবং আবিষ্কারের এক অনন্য যাত্রা।


১০. James Clerk Maxwell

https://images.openai.com/static-rsc-4/ZBg4SKtsWygGEjlQ4gLgpc1aJNqiTvW_ycOvvvMIjs57V9ifb_EKMSCt2W3zcG9clEAwY49a8QjzykGHRoNMKyMyn4sNfkVmatop3Uyw84Tn7DwE-DTfOqBYv40B0qP8rRFnzujuDdLulDkKkcWQsqsAR5L-Yv3fcOmavU1PDUv8QBXtZ2XelvDk_ad7MEsB?purpose=fullsize

জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল এমন একজন বিজ্ঞানী, যিনি বিদ্যুৎ ও চুম্বকত্বকে একত্রিত করে একটি ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব তৈরি করেন। তার প্রণীত ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণগুলো দেখায় যে আলো আসলে একটি তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ।

এই আবিষ্কার শুধু পদার্থবিজ্ঞানে নয়, বরং প্রযুক্তির জগতে এক বিশাল বিপ্লব ঘটায়। রেডিও, টেলিভিশন, মোবাইল যোগাযোগ—সবকিছুই তার তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে তৈরি।

ম্যাক্সওয়েলের কাজ আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্বের পথও প্রশস্ত করে।

তার গবেষণা এতটাই গভীর ও মৌলিক যে আজও তা আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

তিনি প্রমাণ করেছেন, প্রকৃতির বিভিন্ন শক্তিকে একসূত্রে বাঁধা সম্ভব—আর সেই বোঝাপড়াই আমাদের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি।

🏷️ ট্যাগ: #বিজ্ঞান ইতিহাস #বিখ্যাত বিজ্ঞানী #বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি #পদার্থবিজ্ঞানী #বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানী #পদার্থবিজ্ঞান ব্লগ #বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার

এই বিভাগের আরও রিভিউ ও ব্লগ

সবগুলো দেখুন »

কলম্বিয়ার মাদকসম্রাট পাবলো এসকোবারের জীবনের ১০ অজানা ও চমকপ্রদ দিক

একজন সাধারণ পরিবারের ছেলে কীভাবে বিশ্বের অন্যতম কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীতে পরিণত হয়েছিলেন? কীভাবে বিপুল অর্থ, রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সহিংসতা ও জনসমর্থনের...

অ্যান কার্সনের নোবেল জয়ের ১০ সাহিত্যিক কারণ: কেন ব্যতিক্রমী এই লেখক বিশ্বসাহিত্যের শীর্ষে?

সাহিত্য কি কেবল কবিতা, উপন্যাস কিংবা প্রবন্ধের নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আবদ্ধ? নাকি একটি সাহিত্যকর্ম একই সঙ্গে কবিতা, দর্শন, ইতিহাস, ব্যক্তিগত স্মৃতি...

পর্দার সেই আগুন নিভে গেল! নানা পাটেকারকে ঘিরে আবেগঘন বিদায়বার্তা, ভারতীয় সিনেমায় অপূরণীয় শূন্যতা

কিছু মানুষ চলে যান, কিন্তু তাঁদের কণ্ঠস্বর থেকে যায়। কিছু মুখ হারিয়ে যায় সময়ের ওপারে, অথচ তাঁদের অভিনীত চরিত্রগুলো বেঁচে...

২০২৬ সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডিয়ান কবি অ্যান কার্সন

বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ২০২৬ সালের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন কানাডিয়ান কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যান কার্সন (Anne Carson)। বৃহস্পতিবার,...